আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির, সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি করার দাবিতে- বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

0
71
আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির, সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি করার দাবিতে- বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

হত্যা, হামলা, নির্যাতন সমাধান নয়, সকল গ্রেডে সমান হারে মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে
অবিলম্বে সকল কারখানা খুলে শ্রমিকদের দাবি মেনে নাও
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি

আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখ্তার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা এক যুক্ত বিবৃতিতে সাভারের উলাইলে আন-লিমা কারখানার শ্রমিক ২২ বছর বয়সী সুমন মিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসাথে শতাধিক কারখানা বন্ধের ঘোষণা বাতিল করে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেবার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন সরকারের শাসনে পুলিশের প্রথম গুলি শ্রমিকের বুকে লাগলো এটি কোনভাবেই প্রত্যাশিত না। অবিলম্বে শ্রমিক নিহত হবার ঘটনার -এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, গতকাল ৮ জানুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে সাভারের উলাইলে আন-লিমা কারখানার সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ শ্রমিকদের উপর গুলি করলে সুমন নামে একজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়া সুমনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও একই কারখানার শমেস নামের একজন শ্রমিক ও সকালে হেমায়েতপুরের আরও দুই নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অবিলম্বে সুমন হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে বিচার চাই এবং যারা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও বিচার দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন,গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, সাভার, মীরপুরে শ্রমিকরা মজুরী বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ, অবৈধ ছাঁটাইসহ অন্যান্য কারখানা ভিত্তিক দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক উপায়ে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ না থাকায় শ্রমিকরা বিক্ষিপ্তভাবে দাবি জানিয়েছে। শ্রমিকদের এই অসন্তোষের আসল কারনকে পাশ কাটিয়ে সমাধানে দ্রæত উদ্যোগ না নিয়ে মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যেটি শিল্পের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে। একইসাথে নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিক এবং সরকারপক্ষ সমস্যার যথাযথ সমাধান না করে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করতে দমনের পথ বেছে নিয়ে পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তুলেছে। নেতবৃন্দ সকল গ্রেডের সমান হারে মজুরী বৃদ্ধি এবং সমন্বয় দ্রæত করার জন্য এবং সকল কারখানা খুলে দেবার আহবান জানান মালিক এবং সরকার পক্ষের কাছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাপক পুলিশী হামলার ফলে শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। গুলি বিদ্ধ হয়েছে সুমন মিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় আছে আরো কয়েকজন শ্রমিক। গত বছরে ঘোষিত নতুন মজুরীতে সকল গ্রেডের সমান হারে মজুরী বৃদ্ধি না পাবার বিষয়টি পাশ না কাটিয়ে এ বিষয়য়ে দ্রæত উদ্যোগ নিতে হবে। বক্তারা বলেন শ্রমপ্রতিমন্ত্রী গতকাল ১ মাসের মধ্যে সমাধানের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, সুমন মিয়া হত্যায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কেউই আইনের উর্ধ্বে না। সুমন মিয়াকে এইভাবে গুলিবিদ্ধ করার জন্য দোষীদের গ্রেফতার এবং শাস্তির ব্যবস্থা না করলে শ্রমিকদের অসন্তোষ বেড়ে যেতে পারে। যার দায় সরকার এবং মালিকপক্ষকেই নিতে হবে। বর্তমানে শ্রমিকরা ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। দমন-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বরং তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সকল গ্রেডে সমানহারে মজুরি বৃদ্ধি ও মজুরিতে সামঞ্জস্য এনে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন। অতি সত্বর বকেয়া বেতন পরিশোধ করুন। ছাটাই-নির্যাতন বন্ধ করে কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির আহ্বন জানাই।