আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার বিকাল ৪টায় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি করার দাবিতে- বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

0
119
আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার বিকাল ৪টায় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি করার দাবিতে- বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

.

.সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার চাই
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি কর।

আজ ৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার বিকাল ৪টায় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে সাভারে শ্রমিক হত্যার বিচার এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে মজুরী বৃদ্ধি করার দাবিতে- বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি ও গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতা শবনম হাফিজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখ্তার, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ ইয়াসিন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু, জাতীয় সুয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন, বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক এবং গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক বিপ্লব ভট্টাচার্য। সাভারের উলাইলের আন-লিমা কারখানার শ্রমিক সুমন মিয়াকে গুলি করে হত্যায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনের আগে শ্রমিকরা বলেছিলেন তাদের নতুন মজুরি ঘোষণায় প্রায় সকল গ্রেডে ঠকানো হয়েছে। নির্বাচনের পরেও যখন ন্যায্য মজুরি ঘোষণা হয়নি তখনই শ্রমিকরা ওই মজুরী বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমিকরা দাবিকৃত মজুরি, গ্রেডে বৈষম্য, বকেয়া বেতন আদায়, অবৈধ ছাঁটাই বন্ধ করাসহ অন্যান্য কারখানাভিত্তিক দাবি দাওয়ার আন্দোলন করে আসছিলেন। কিন্তু শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক উপায়ে মেনে নেয়া কিংবা সমাধানের ব্যবস্থা না করে সরকার দমনের দিকে গিয়েছেন।
গত ৮ জানুয়ারি সরকার শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে পাশ কাটিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশ গুলি করে সুমন মিয়াকে হত্যা করে এবং আরো অনেক শ্রমিককে আহত করে। আহতদের মধ্যে শমেস নামের একজন শ্রমিক ও হেমায়েতপুরের আরও দুই নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এঘটনা বলে দেয় সরকার মুখে নিজেকে যতই শ্রমিকবান্ধব দাবি করুক না কেন তাদের কাজ বলে দেয় তারা শ্রমিককে গুলি-নির্যাতন ছাড়া কিছুই দিবে না। তাই শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে মালিক ও তাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি রাখতে হবে। বর্তমানে শ্রমিকরা ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। দমন-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বরং তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই শ্রমিকরাই যেখানে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানীমুখী এই গার্মেন্ট খাতকে টিকিয়ে রেখেছেন সেখানে তাদের সাথেই মজুরি নিয়ে প্রতারণা চলতে পারে না। তাদের জীবনমান উন্নত না হলে, মজুরি না বাড়লে, কর্মপরিবেশ ঠিক না করলে এবং এসবকিছুর মধ্য দিয়ে যথার্থ শ্রমপরিবেশ তৈরি না করলে গার্মেন্ট খাতকে আরও শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানো যাবে না।
অবিলম্বে শ্রমিকদের এই চলমান আন্দোলনকে দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে দাবিয়ে না রেখে তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য আমরা শ্রমমন্ত্রণালয়কে আহŸান জানাই।
নেতৃবৃন্দ অতি সত্বর কারখানা খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে সকল গ্রেডে সমানহারে মজুরি বৃদ্ধি ও মজুরিতে সামঞ্জস্য আনার আহŸান জানান। এবং শ্রমিকদের সাথে করা অন্যান্য অঙ্গিকার পূরণের কথা বলেন। তারা দোষীদের গ্রেফতার, সুমন হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে বিচার দাবি এবং যারা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও বিচার দাবি করেন।
তারা বকেয়া বেতন পরিশোধ, ছাটাই-নির্যাতন বন্ধ করে কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির দাবিও করেন।