গতকাল রবিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে সফররত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে করমর্দন করছেণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

0
183
গতকাল রবিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে সফররত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে করমর্দন করছেণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সব পক্ষকে নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের পথে বাধাগুলো দূর করতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল রবিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের (আইএসএ) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সফররত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে সচেষ্ট থাকার কথা বলেছেন যখন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বছর চলছে। অন্যদিকে মোদি সরকারেরও বর্তমান মেয়াদের শেষ বছর আগামী দুই মাসের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে। গত বছর এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় মোদি বলেছিলেন, কেবল তিনি ও তাঁর সরকারই তিস্তার পানিবণ্টন করতে পারে। আগামী মাসেই ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে গতকাল বৈঠকের পর বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বলেছেন যে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করাতে নয়াদিল্লি সচেষ্ট রয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিস্তার পানিবণ্টনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জবাবে মোদি বলেন, তাঁর সরকার এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাচ্ছে এবং সবাইকে নিয়েই তিনি সমাধান করতে আগ্রহী।’

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে বাগড়া দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে মোদির মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উই আর ট্রায়িং টু কিপ হার অন বোর্ড (আমরা তাঁকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করছি)।’

মো. আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মোদি তাঁকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রপতি মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মোদি বড় এ সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি গত শনিবার নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে দুই দিন তাঁর আসাম ও মেঘালয় সফরের কথা তুলে ধরেন। এ সময় মোদি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনার এই সফরে আমরা আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করেছি।’ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ভারতীয়দের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোকেও মোদি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক টুইট বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে লিখেছে, ‘কাছের বন্ধু ও প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের বন্ধন আরো জোরদার করছি। আইএসএ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেছেন। দুই নেতা কানেকটিভিটি উন্নয়ন সহযোগিতাসহ অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করেছেন।’

সৌরশক্তির উন্নয়নে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান : এর আগে গতকাল সকালে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আইএসএ শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ করে সৌরশক্তিসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সম্ভাবনাগুলো প্রায়ই উন্নয়নের লক্ষ্য দ্বারা চাপা পড়ে যায়। তবু আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষার কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে আমাদের অবদান মাত্র ০.১ শতাংশ হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বাংলাদেশের ওপর হুমকি ব্যাপক।’ বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে।’

সব সময় বিশ্ব উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি সৌরশক্তির সব ক্ষেত্র গতিশীল করতে গবেষণা, উন্নয়ন ও স্থানান্তরের নতুন দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য আইএসএর পক্ষ থেকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, সম্মেলনে আইএসএর ১২১টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ২৪টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও প্রতিনিধি যোগ দেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রাষ্ট্রপতির আজ সোমবার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে