নৌপরিবহনমন্ত্রী’র পদত্যাগ দাবি করলেন মির্জা ফখরুল

0
24
ফাইল ছবি

ঢাকা : নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে ‘পরিবহন সেক্টরের (খাতের) বিশৃঙ্খলার উসকানিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় গত রোববার বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজও ঢাকার রাজপথে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

মির্জা ফখরুল তাঁর বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্ভূত সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক বাসচালকের শাস্তিসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ফখরুল বলেন ‘বাংলাদেশে বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে সীমাহীন ব্যর্থতায় পর্যবসিত। সরকারের প্রশ্রয়ে দুষ্কৃতকারীদের দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই দেশে এখন মানুষের জীবন-জীবিকা চরমভাবে নিরাপত্তাহীন। মানুষের ক্ষোভের আঁচ উপলব্ধি করতে পারে না বলেই সরকার গণবিরোধী বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। কোমলমতি কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদেরও জীবন ঝরে পড়াটাও দুঃশাসনের ফলশ্রুতি। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর যখন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বেদনার্ত, শোকাহত ও ক্ষুব্ধ, তখন ছাত্রছাত্রীর লাশ নিয়ে নৌমন্ত্রীর হাসি যেন বিদ্রূপের হাসি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান পরিবহন সেক্টরের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সুতরাং তাঁর আশকারায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরে অরাজকতা লেগেই আছে। কিছু প্রশিক্ষণহীন অদক্ষ চালক ও লাইসেন্সবিহীন সমবয়সী চালক এবং চলাচলে অনুপযুক্ত যানবাহনের প্রাধান্য থাকলে সড়ক-মহাসড়কে মরণঘাতী ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তেই থাকবে। আর এগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে শুধু নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের প্রশ্রয়ে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দুই শিক্ষার্থীর হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে দেশজুড়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লেও তাতে সরকারের বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি। বরং বেপরোয়া বাসচালকের দ্বারা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলি, টিয়ার গ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তা কেবল নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের দ্বারাই সম্ভব। ন্যায়বিচার না পাওয়া, বঞ্চিত, প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হিংস্র আক্রমণে আহত করার পর অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ‘শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের এই অমানবিক আক্রমণের’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার জন্যই সব ক্ষেত্রে অধঃপতন শুরু হয়েছে। বর্তমানে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল। নিহতের ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহত দুই শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।