মিয়ানমারে ফের তৎপর রোহিঙ্গাবিদ্বেষী বৌদ্ধভিক্ষুরা

0
24
মিয়ানমারে ফের তৎপর রোহিঙ্গাবিদ্বেষী বৌদ্ধভিক্ষুরা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী ও উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত দুই বৌদ্ধভিক্ষু ফের তৎপরতা শুরু করেছেন। তাদের একজন অশ্বিন উইরাথু ও অপরজন পরমৌক্ষা। একের পর এক সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেয়ার দায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষু অশ্বিন উইরাথুর ওপর। গত শুক্রবার তার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শনিবার ইয়াঙ্গুনের একটি বৌদ্ধ আশ্রমে বক্তব্য রেখেছেন তিনি।

আরেক উগ্র বৌদ্ধভিক্ষু পরমৌক্ষা তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে নিজের আশ্রমে ফিরে যান। কারাভোগের পরও রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব ধরে রেখেছেন তিনি। আশ্রমে ফিরে তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমারের ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই।’

বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুখপাত্রের পরিচিতি পাওয়া উইরাথুকে এক সময় ‘বৌদ্ধদের বিন লাদেন’ নামে ডাকা হতো। দেশটির সিনিয়র ভিুদের একটি কাউন্সিল তার ধর্মপ্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত নির্মম দমনাভিযান শুরু করে মিয়ানমার। হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সাথে মিলে রাখাইনের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও সহিংসতায় অংশ নিয়েছে। শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে এলেও রাষ্ট্রীয় নীতিতে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগুরু অংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় রাখাইনের সহিংসতার কারণ হিসেবে সাম্প্রদায়িক বিভেদকেও দায়ী করেন অনেকে। বৌদ্ধ ভিু অশ্বিন উইরাথু ও পরমৌক্ষার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।

এক বছর আগে উইরাথুর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সে দেশের সিনিয়র ভিুদের নিয়ে গঠিত একটি কমিশন। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়ে ওই কমিশন জানায়, উইরাথু সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করতে ধর্মের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘৃণাসূচক বক্তব্য রেখেছেন। শুক্রবার তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়। নিষেধাজ্ঞা চলার মধ্যেও একাধিকবার তা অমান্য করেছেন তিনি। ফেসবুকের নিজের পেজেও মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন উইরাথু। এ বছরের জানুয়ারিতে তার পেজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

শনিবার ইয়াঙ্গুনে বৌদ্ধ আশ্রমে দেয়া ভাষণে উইরাথু দাবি করেন, তার মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সাথে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার সংশ্লিষ্টতা নেই। রাখাইন ‘বাঙালি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড’ প্রত্য করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে সেখানে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। নিজের শহর মান্দালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যের পে যুক্তি হাজির করেন উইরাথু।

তিনি বলেন, ‘উইরাথু যদি সঙ্ঘাত সৃষ্টি করত তাহলে মান্দালয় ছাই হয়ে যেত। এ সত্য বিশ্ব জানে না।’ ইরাবতি নদীর তীরবর্তী মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় ২০১৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রত্য করে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ ওঠার পর ওই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

উইরাথুর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার দিনেই শুক্রবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরেক উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী ভিু পরমৌক্ষা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইয়াঙ্গুনের মার্কিন দূতাবাসের বাইরে রোহিঙ্গাবিরোধী এক বিােভে অংশ নেয়ার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আটক হন তিনি। রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিােভ দেখাতে সমর্থকদের নিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তিনি। তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে নিজের আশ্রমে ফিরে যান তিনি। কারাভোগের পরও রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব ধরে রেখেছেন তিনি। আশ্রমে ফিরে বলেছেন, ‘মিয়ানমারের ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই।’